ঢাকা বাংলাদেশ , শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
মাদক ও নারীসহ যুবদল নেতা আটক, দুপুরে কোর্টে সোপর্দ-বিকালে জামিন মাদক বিক্রির টাকা ভাগাভাগির ভিডিও ভাইরাল, যুবদল নেতা বহিষ্কার সরকারি প্রকল্পের নামে চলছে লুটপাট, দেড় কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়ম চলনবিলে মৎস গবেষনা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার জুমাইখিরা গ্রামের বিল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার ব্যস্ত সময় পার করছেন সঙ্গীতশিল্পী ফরহাদ হুসাইন হ্যাটট্রিক সাফ মিশনে বাংলাদেশ, নেই স্বপ্না, মুনকি ইরানে সামরিক অভিযান সমাপ্ত : রুবিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিএজি’র অডিট রিপোর্ট দাখিল গুরুদাসপুরে ছিনতাই-ডাকাতির দৌরাত্ব, আতঙ্কে এলাকাবাসী

গুরুদাসপুরে প্রশাসনের আদেশ অমান্য করে সরকারি জায়গায় ক্লাবঘর নির্মাণ চেষ্টা

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দার শিকারপাড়ার নুহুর মোড়ে সরকারি জায়গা দখল করে পাকা ক্লাবঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ‘জিয়া পরিষদ’ নামে একটি ক্লাবের ঘর নির্মাণে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দলীয় প্রভাব খাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সত্যতা পাওয়ায় উপজেলা প্রশাসন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

 

গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি জায়গার ওপর পাকা ঘর নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, আব্দুস সাত্তার, আব্দুল বারী ও মাসুদ রানা আক্কেলের নেতৃত্বে ওই নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছিল।

 

জানা যায়, গত বছরের ১৩ আগস্ট একই স্থানে ক্লাবঘর নির্মাণ শুরু হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরেজমিন পরিদর্শন করে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন এবং নোটিশ জারি করেন। তবে সেই নির্দেশ অমান্য করে সম্প্রতি পুনরায় কাজ শুরু করা হলে উপজেলা প্রশাসন আবারও তা বন্ধ করে দেয়।

 

স্থানীয় বাসিন্দা নুর সরদার (৭০) জানান, ক্লাবঘর নির্মাণের স্থানটি একসময় জনসাধারণের চলাচলের কাঁচা রাস্তা ছিল। নিচু হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো এবং তখন মানুষ তার ব্যক্তিগত জমি দিয়ে চলাচল করত। পরবর্তীতে তার জমির ওপর পাকা রাস্তা নির্মাণ হলে আগের রাস্তা পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। তিনি দাবি করেন, তার ক্রয়কৃত জমির পরিবর্তে সরকারি ওই সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ক্লাবঘর নির্মাণ বন্ধের আবেদন করেছেন।

 

অন্যদিকে, নির্মাণকাজে জড়িত মাসুদ রানা আক্কেল বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকেই ওই স্থানে একটি ক্লাবঘর ছিল। সেটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় ‘জিয়া পরিষদ’ নাম দিয়ে নতুন করে পাকা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে নুর সরদারের আবেদনের পর প্রশাসন কাজ বন্ধ ও অপসারণের নির্দেশ দেয়। তিনি স্বীকার করেন, জায়গাটি সরকারি।

 

এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সরকারি জমি দখলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, জায়গাটি সরকারি হওয়ায় গত বছর কাজ বন্ধ ও অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশ অমান্য করে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করলে তা আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Gurudaspur Somoy

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

মাদক ও নারীসহ যুবদল নেতা আটক, দুপুরে কোর্টে সোপর্দ-বিকালে জামিন

গুরুদাসপুরে প্রশাসনের আদেশ অমান্য করে সরকারি জায়গায় ক্লাবঘর নির্মাণ চেষ্টা

প্রকাশিত : ০৪:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দার শিকারপাড়ার নুহুর মোড়ে সরকারি জায়গা দখল করে পাকা ক্লাবঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ‘জিয়া পরিষদ’ নামে একটি ক্লাবের ঘর নির্মাণে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দলীয় প্রভাব খাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সত্যতা পাওয়ায় উপজেলা প্রশাসন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

 

গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি জায়গার ওপর পাকা ঘর নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, আব্দুস সাত্তার, আব্দুল বারী ও মাসুদ রানা আক্কেলের নেতৃত্বে ওই নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছিল।

 

জানা যায়, গত বছরের ১৩ আগস্ট একই স্থানে ক্লাবঘর নির্মাণ শুরু হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরেজমিন পরিদর্শন করে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন এবং নোটিশ জারি করেন। তবে সেই নির্দেশ অমান্য করে সম্প্রতি পুনরায় কাজ শুরু করা হলে উপজেলা প্রশাসন আবারও তা বন্ধ করে দেয়।

 

স্থানীয় বাসিন্দা নুর সরদার (৭০) জানান, ক্লাবঘর নির্মাণের স্থানটি একসময় জনসাধারণের চলাচলের কাঁচা রাস্তা ছিল। নিচু হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো এবং তখন মানুষ তার ব্যক্তিগত জমি দিয়ে চলাচল করত। পরবর্তীতে তার জমির ওপর পাকা রাস্তা নির্মাণ হলে আগের রাস্তা পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। তিনি দাবি করেন, তার ক্রয়কৃত জমির পরিবর্তে সরকারি ওই সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ক্লাবঘর নির্মাণ বন্ধের আবেদন করেছেন।

 

অন্যদিকে, নির্মাণকাজে জড়িত মাসুদ রানা আক্কেল বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকেই ওই স্থানে একটি ক্লাবঘর ছিল। সেটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় ‘জিয়া পরিষদ’ নাম দিয়ে নতুন করে পাকা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে নুর সরদারের আবেদনের পর প্রশাসন কাজ বন্ধ ও অপসারণের নির্দেশ দেয়। তিনি স্বীকার করেন, জায়গাটি সরকারি।

 

এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সরকারি জমি দখলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, জায়গাটি সরকারি হওয়ায় গত বছর কাজ বন্ধ ও অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশ অমান্য করে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করলে তা আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।