ঢাকা বাংলাদেশ , শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
মাদক ও নারীসহ যুবদল নেতা আটক, দুপুরে কোর্টে সোপর্দ-বিকালে জামিন মাদক বিক্রির টাকা ভাগাভাগির ভিডিও ভাইরাল, যুবদল নেতা বহিষ্কার সরকারি প্রকল্পের নামে চলছে লুটপাট, দেড় কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়ম চলনবিলে মৎস গবেষনা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার জুমাইখিরা গ্রামের বিল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার ব্যস্ত সময় পার করছেন সঙ্গীতশিল্পী ফরহাদ হুসাইন হ্যাটট্রিক সাফ মিশনে বাংলাদেশ, নেই স্বপ্না, মুনকি ইরানে সামরিক অভিযান সমাপ্ত : রুবিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিএজি’র অডিট রিপোর্ট দাখিল গুরুদাসপুরে ছিনতাই-ডাকাতির দৌরাত্ব, আতঙ্কে এলাকাবাসী

গুরুদাসপুরে ডিলারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে তেল বিক্রির অভিযোগ, ১ হাজার ২’শ লিটার তেল জব্দ

জ্বালানি সংকটের মধ্যেও গুরুদাসপুর পৌর শহরের ‘মেসার্স নজরুল এন্টার প্রাইজ’ নামের একটি পাইকারি তেল বিক্রি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে তেল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময়  অভিযান চালিয়ে এক হাজার ২’শ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

 

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ি বাজারে “মেসার্স সাগর এন্টারপ্রাইজ” নামক প্রতিষ্ঠানে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. শফিকুল ইসলাম মাস্টার । তিনি স্থানীয় দুর্গাপুর হাই স্কুলের শিক্ষক হিসেবেও কর্মরত আছেন। জব্দকৃত ওই ডিজেল বিক্রি করেছেন মেসার্স  নজরুল এন্টারপ্রাইজ’’ ।  

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাবগাড়ি বাজারে গভীর রাতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অবৈধভাবে মজুদ করা ৬ ব্যারেল  (১২00 লিটার) তেল জব্দ করা হয়। তবে দোকানের মালিক গা ঢাকা দেওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পরে জব্দকৃত তেল ‘মেসার্স নজরুল এন্ড সন্স’ থেকে অবৈধ পন্থায় কেনা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের স্বীকারোক্তি দেন তেল বিক্রেতার ছেলে সাগর হোসেন।

 

তিনি বলেন, পদ্মা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানির দুটি পৃথক লাইসেন্সে তেল আমদানি করা হয়। দুটি লাইসেন্সের সত্ত্বাধিকারি হাজি নজরুল ইসলাম। এখান থেকেই তিনি প্রতি লিটার ১৪০টাকা দরে প্রথম দফায় ১ হাজার ৫শ লিটার এবং দ্বিতীয় দফায় গত সপ্তাহে ২ হাজার লিটার তেল অবৈধপন্থায় কিনেছেন। এই তেল তিনি চলনবিলের কৃষকের কাছে বিক্রি করতেন।

 

তার ভাষ্যমতে- দেশে জ্বালানি তেলের সংকট শুরুর পর থেকেই নজরুল ইসলামের ছেলে প্রভাষক হুমায়ন কবির তপু তেল আমদানি করে তা অবৈধভাবে উচ্চমূল্যে বিক্রি করছেন। পৌর সদরের চাঁচকৈড় বাজার ও খলিফা পাড়ায় তাদের তেল বিক্রির দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গভীর রাতে তেলের গাড়ি এনে গুরুদাসপুরের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী সিংড়া উপজেলার বিলদহর বাজারে তেল বিক্রি করেন এই ব্যক্তি। সবশেষ গত সপ্তাহে অন্তত ১০ হাজার লিটার তেলের একটি গাড়ি এনে সাবগাড়ি মেসার্স সাগর এন্টারপ্রাইজ ও বিলদহরের কিছু দোকানে তেল বিক্রি করা হয়।

 

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, গুরুদাসপুরে সরকার অনুমোদিত চলনবিল ফিলিং স্টেশন নামের একটি ডিলার ও দুটি প্যাকড পয়েন্ট ডিলারশিপ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে চাহিদার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয় পাবনার বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে। আর ভোক্তা পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি করা হয় সপ্তাহের নির্দিষ্ট যে কোনো একদিনে।

 

নাম প্রকাশ না করার সত্তে একাধিক ভেকু মালিক বলেন, গুরুদাসপুরের মশিন্দা ইউনিয়নেই ফসলি জমিতে ৪টি পয়েন্টে চলছে অবৈধ পুকুর খনন। হাজার হাজার লিটার তেল প্রয়োজন হয় এই খননযন্ত্র চালাতে। তারা অবৈধ পন্থা অবলম্বণ করে তেল সংগ্রহ করছেন। ফলে কৃষকরা তাদের চাহিদা মতো তেল পাচ্ছেন না। অথচ বরাদ্দের তেল বিক্রি হচ্ছে কালোবাজারে।

 

অবৈধভাবে তেল বিক্রির কথা অস্বীকার করেছেন মেসার্স চলনবিল ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারি খবির উদ্দিন। তবে গত সপ্তাহে অবৈধভাবে তেল বহনকারি গাড়িটির মালিকানা নিজের দাবি করেছেন ‘মেসার্স নজরুল এন্ড সন্সে’র স্বত্তাধিকারি নজরুল ইসলামের ছেলে হুমায়ন কবির। তিনি বলেন, তেলবাহী গাড়িটি তিনি ভাড়া দিয়েছেন। গাড়িতে কারা অবৈধভাবে তেল বিক্রি করছেন তা তিনি জানেন না।

 

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ‘মেসার্স নজরুল এন্ড সন্সে’র বিরুদ্ধে অবৈধভাবে তেল বিক্রির অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

Gurudaspur Somoy

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

মাদক ও নারীসহ যুবদল নেতা আটক, দুপুরে কোর্টে সোপর্দ-বিকালে জামিন

গুরুদাসপুরে ডিলারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে তেল বিক্রির অভিযোগ, ১ হাজার ২’শ লিটার তেল জব্দ

প্রকাশিত : ০১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি সংকটের মধ্যেও গুরুদাসপুর পৌর শহরের ‘মেসার্স নজরুল এন্টার প্রাইজ’ নামের একটি পাইকারি তেল বিক্রি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে তেল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময়  অভিযান চালিয়ে এক হাজার ২’শ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

 

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ি বাজারে “মেসার্স সাগর এন্টারপ্রাইজ” নামক প্রতিষ্ঠানে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. শফিকুল ইসলাম মাস্টার । তিনি স্থানীয় দুর্গাপুর হাই স্কুলের শিক্ষক হিসেবেও কর্মরত আছেন। জব্দকৃত ওই ডিজেল বিক্রি করেছেন মেসার্স  নজরুল এন্টারপ্রাইজ’’ ।  

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাবগাড়ি বাজারে গভীর রাতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অবৈধভাবে মজুদ করা ৬ ব্যারেল  (১২00 লিটার) তেল জব্দ করা হয়। তবে দোকানের মালিক গা ঢাকা দেওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পরে জব্দকৃত তেল ‘মেসার্স নজরুল এন্ড সন্স’ থেকে অবৈধ পন্থায় কেনা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের স্বীকারোক্তি দেন তেল বিক্রেতার ছেলে সাগর হোসেন।

 

তিনি বলেন, পদ্মা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানির দুটি পৃথক লাইসেন্সে তেল আমদানি করা হয়। দুটি লাইসেন্সের সত্ত্বাধিকারি হাজি নজরুল ইসলাম। এখান থেকেই তিনি প্রতি লিটার ১৪০টাকা দরে প্রথম দফায় ১ হাজার ৫শ লিটার এবং দ্বিতীয় দফায় গত সপ্তাহে ২ হাজার লিটার তেল অবৈধপন্থায় কিনেছেন। এই তেল তিনি চলনবিলের কৃষকের কাছে বিক্রি করতেন।

 

তার ভাষ্যমতে- দেশে জ্বালানি তেলের সংকট শুরুর পর থেকেই নজরুল ইসলামের ছেলে প্রভাষক হুমায়ন কবির তপু তেল আমদানি করে তা অবৈধভাবে উচ্চমূল্যে বিক্রি করছেন। পৌর সদরের চাঁচকৈড় বাজার ও খলিফা পাড়ায় তাদের তেল বিক্রির দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গভীর রাতে তেলের গাড়ি এনে গুরুদাসপুরের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী সিংড়া উপজেলার বিলদহর বাজারে তেল বিক্রি করেন এই ব্যক্তি। সবশেষ গত সপ্তাহে অন্তত ১০ হাজার লিটার তেলের একটি গাড়ি এনে সাবগাড়ি মেসার্স সাগর এন্টারপ্রাইজ ও বিলদহরের কিছু দোকানে তেল বিক্রি করা হয়।

 

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, গুরুদাসপুরে সরকার অনুমোদিত চলনবিল ফিলিং স্টেশন নামের একটি ডিলার ও দুটি প্যাকড পয়েন্ট ডিলারশিপ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে চাহিদার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয় পাবনার বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে। আর ভোক্তা পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি করা হয় সপ্তাহের নির্দিষ্ট যে কোনো একদিনে।

 

নাম প্রকাশ না করার সত্তে একাধিক ভেকু মালিক বলেন, গুরুদাসপুরের মশিন্দা ইউনিয়নেই ফসলি জমিতে ৪টি পয়েন্টে চলছে অবৈধ পুকুর খনন। হাজার হাজার লিটার তেল প্রয়োজন হয় এই খননযন্ত্র চালাতে। তারা অবৈধ পন্থা অবলম্বণ করে তেল সংগ্রহ করছেন। ফলে কৃষকরা তাদের চাহিদা মতো তেল পাচ্ছেন না। অথচ বরাদ্দের তেল বিক্রি হচ্ছে কালোবাজারে।

 

অবৈধভাবে তেল বিক্রির কথা অস্বীকার করেছেন মেসার্স চলনবিল ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারি খবির উদ্দিন। তবে গত সপ্তাহে অবৈধভাবে তেল বহনকারি গাড়িটির মালিকানা নিজের দাবি করেছেন ‘মেসার্স নজরুল এন্ড সন্সে’র স্বত্তাধিকারি নজরুল ইসলামের ছেলে হুমায়ন কবির। তিনি বলেন, তেলবাহী গাড়িটি তিনি ভাড়া দিয়েছেন। গাড়িতে কারা অবৈধভাবে তেল বিক্রি করছেন তা তিনি জানেন না।

 

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ‘মেসার্স নজরুল এন্ড সন্সে’র বিরুদ্ধে অবৈধভাবে তেল বিক্রির অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন।