ঢাকা বাংলাদেশ , শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
মাদক ও নারীসহ যুবদল নেতা আটক, দুপুরে কোর্টে সোপর্দ-বিকালে জামিন মাদক বিক্রির টাকা ভাগাভাগির ভিডিও ভাইরাল, যুবদল নেতা বহিষ্কার সরকারি প্রকল্পের নামে চলছে লুটপাট, দেড় কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়ম চলনবিলে মৎস গবেষনা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার জুমাইখিরা গ্রামের বিল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার ব্যস্ত সময় পার করছেন সঙ্গীতশিল্পী ফরহাদ হুসাইন হ্যাটট্রিক সাফ মিশনে বাংলাদেশ, নেই স্বপ্না, মুনকি ইরানে সামরিক অভিযান সমাপ্ত : রুবিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিএজি’র অডিট রিপোর্ট দাখিল গুরুদাসপুরে ছিনতাই-ডাকাতির দৌরাত্ব, আতঙ্কে এলাকাবাসী

গুরুদাসপুরে মাদক সম্রাট ভম্বু দম্পতি ইয়াবা ও হিরোইনসহ আটক

নাটোরের গুরুদাসপুরে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত মাদকবিরোধী অভিযান আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছে। স্থানীয়ভাবে ‘মাদক সম্রাট’ নামে পরিচিত শহিদুল ইসলাম ভম্বু (৪৫) ও তাঁর স্ত্রী তানিয়া আক্তার সূর্য (৪০) পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। রোববার (৩০ নেভেম্বার) রাত ৯টার দিকে উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামে হঠাৎ করে চালানো এ বিশেষ অভিযানে পুরো এলাকায় এক প্রকার টানটান উত্তেজনা বিরাজ করে।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দুলাল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বাড়িটি ঘিরে ফেলে। পরে তল্লাশি চালিয়ে ভম্বু দম্পতিকে আটক করা হয়। এসময় তাদের সহযোগী রুবেল আলী (২৯) কেও গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার দুপুরে তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

পুলিশ জানায়, তাদের তল্লাশিতে ১০৭ পিস ইয়াবা, ২৪৫ পুরিয়া হেরোইন, এবং মাদক বিক্রির ৫৬ হাজার ৫৭০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা এসব মাদকের পরিমাণ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মাধ্যমে এলাকাজুড়ে সক্রিয় একটি মাদকচক্র পরিচালিত হচ্ছিল।

 

এছাড়াও পুলিশি নথি অনুযায়ী, শহিদুল ইসলাম ভম্বুর বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগের ২১টি মামলা রয়েছে, যার বেশিরভাগই গুরুত্বর অপরাধের শ্রেণিতে পড়ে। তাঁর স্ত্রী তানিয়া আক্তারের বিরুদ্ধেও ৯টি মাদক মামলা বিচারাধীন। পুলিশ বলছে, দীর্ঘদিন ধরেই তারা একটি সক্রিয় মাদক কারবারী নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছিল, আর সেই নেটওয়ার্কে সহযোগী হিসেবে ছিলেন রুবেল আলী।

 

স্থানীয়রা বলেন, বহুদিন ধরেই যোগেন্দ্রনগর গ্রামসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় এই পরিবার সম্পর্কে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।  ভম্বু ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চুরি, এমনকি এলাকার বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ বহু বছরের। মাঝে মাঝে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে তারা আবার পূর্বের কর্মকান্ড শুরু করেন। যার ফলে যুবসমাজ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছিল। তবে এতোদিন পরে তাদের আটক হওয়ায়  আমরা বেশ  স্বস্তি পেয়েছি। পুলিশের এই উদ্যোগ এলাকায় নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে এনেছে।”

 

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দুলাল হোসেন বলেন, “গুরুদাসপুরকে মাদকমুক্ত এলাকা ঘোষণা করতে আমরা ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছি। যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। সামনের দিনগুলোতে মাদকের বিরুদ্ধে আরও কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Gurudaspur Somoy

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

মাদক ও নারীসহ যুবদল নেতা আটক, দুপুরে কোর্টে সোপর্দ-বিকালে জামিন

গুরুদাসপুরে মাদক সম্রাট ভম্বু দম্পতি ইয়াবা ও হিরোইনসহ আটক

প্রকাশিত : ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

নাটোরের গুরুদাসপুরে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত মাদকবিরোধী অভিযান আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছে। স্থানীয়ভাবে ‘মাদক সম্রাট’ নামে পরিচিত শহিদুল ইসলাম ভম্বু (৪৫) ও তাঁর স্ত্রী তানিয়া আক্তার সূর্য (৪০) পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। রোববার (৩০ নেভেম্বার) রাত ৯টার দিকে উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামে হঠাৎ করে চালানো এ বিশেষ অভিযানে পুরো এলাকায় এক প্রকার টানটান উত্তেজনা বিরাজ করে।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দুলাল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বাড়িটি ঘিরে ফেলে। পরে তল্লাশি চালিয়ে ভম্বু দম্পতিকে আটক করা হয়। এসময় তাদের সহযোগী রুবেল আলী (২৯) কেও গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার দুপুরে তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

পুলিশ জানায়, তাদের তল্লাশিতে ১০৭ পিস ইয়াবা, ২৪৫ পুরিয়া হেরোইন, এবং মাদক বিক্রির ৫৬ হাজার ৫৭০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা এসব মাদকের পরিমাণ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মাধ্যমে এলাকাজুড়ে সক্রিয় একটি মাদকচক্র পরিচালিত হচ্ছিল।

 

এছাড়াও পুলিশি নথি অনুযায়ী, শহিদুল ইসলাম ভম্বুর বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগের ২১টি মামলা রয়েছে, যার বেশিরভাগই গুরুত্বর অপরাধের শ্রেণিতে পড়ে। তাঁর স্ত্রী তানিয়া আক্তারের বিরুদ্ধেও ৯টি মাদক মামলা বিচারাধীন। পুলিশ বলছে, দীর্ঘদিন ধরেই তারা একটি সক্রিয় মাদক কারবারী নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছিল, আর সেই নেটওয়ার্কে সহযোগী হিসেবে ছিলেন রুবেল আলী।

 

স্থানীয়রা বলেন, বহুদিন ধরেই যোগেন্দ্রনগর গ্রামসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় এই পরিবার সম্পর্কে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।  ভম্বু ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চুরি, এমনকি এলাকার বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ বহু বছরের। মাঝে মাঝে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে তারা আবার পূর্বের কর্মকান্ড শুরু করেন। যার ফলে যুবসমাজ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছিল। তবে এতোদিন পরে তাদের আটক হওয়ায়  আমরা বেশ  স্বস্তি পেয়েছি। পুলিশের এই উদ্যোগ এলাকায় নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে এনেছে।”

 

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দুলাল হোসেন বলেন, “গুরুদাসপুরকে মাদকমুক্ত এলাকা ঘোষণা করতে আমরা ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছি। যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। সামনের দিনগুলোতে মাদকের বিরুদ্ধে আরও কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।